Type Here to Get Search Results !

কুষ্টিয়ায় অর্থাভাবে শিকলবন্দী শান্ত, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন নবাগত ডিসি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামে টাকার অভাবে শিকলবন্দী জীবন কাটছে ১৪ বছর বয়সী শান্তর। জন্মের পর থেকেই মানসিক সমস্যা দেখা দিলে পরিবার তাকে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করলেও অর্থ সংকটে নিয়মিত চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দিন–দিন অস্বাভাবিক আচরণ বাড়তে থাকায় রাতে ঘরে, আর দিনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখতে বাধ্য হন অভিভাবকরা। রবিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে শান্তর বাড়িতে যান নবাগত জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন। তিনি শিশুটির অবস্থা দেখে চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। শান্ত স্থানীয় কৃষিশ্রমিক জসিম উদ্দিনের সন্তান। জসিম উদ্দিন জানান, ২০১১ সালে জন্ম নেওয়ার পর শান্ত সাড়ে তিন বছর বয়সে নানা অস্বাভাবিক আচরণ ও অখাদ্য খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গেলে দীর্ঘ পাঁচ বছর চিকিৎসা চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। দারিদ্র্যের কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে না পেরে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। কিছুটা ভালো হওয়ার পর আবার সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলে ২০১৮ সালে ফের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেবারও পাঁচ বছর ধরে ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ আসে। কিন্তু দৈনিক ১০০–২০০ টাকার ওষুধ বাবদ খরচ মেটানো তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। জসিম আরও জানান, করোনাকালে গণমাধ্যমে শান্তর ভিডিও ভাইরাল হলে সে সময়ের পুলিশ সুপার তানভির আরাফাত চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পরে তিনি বদলি হলে আবার চিকিৎসা থেমে যায়। বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতার ২ হাজার ৬০০ টাকা তিন মাস পরপর পেলেও তা খাবার, কাপড় ও পরিচর্যায় শেষ হয়ে যায়। এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন জসিম উদ্দিন। তাঁর অসহায় আকুতি—শুধু টাকার অভাবে ছেলে দিন–দিন পাগল হয়ে যাচ্ছে। মিরপুরের ইউএনও মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, শান্তকে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে শিকলে বেঁধে রাখা হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আসার পর তিনি নিজে গিয়ে শিশুটির খোঁজ নেন এবং চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দেন। ● আমারবাঙলা/এফএইচ

from Amarbangla bangladesh Feed

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.