Type Here to Get Search Results !

নেপালে সুশীলা কার্কির শপথ, মার্চে নির্বাচন

নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া নিয়ে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউদেলের সঙ্গে মতানৈক্যের অবসানের পর তাঁকে সরকারপ্রধান করা হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তিনি শপথ নিয়েছেন। এর আগে সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সুশীলার নিয়োগ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন আন্দোলনকারী জেন-জির প্রতিনিধিরা। সুশীলার শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা করা হয়। আগামী বছরের মার্চে নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নেপালের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রেস উপদেষ্টা কিরন পোখারেল এএফপিকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাক্রমে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, পার্লামেন্ট ভাঙা নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সুশীলার মতানৈক্যের কারণে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়। নেপালের সামরিক বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রামের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র সব পক্ষকে সহায়তার আহ্বান জানান। বিক্ষোভকারীদের দাবি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হচ্ছেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। এ দৌড়ে নতুন নাম হিসেবে উঠে এসেছিল এক প্রকৌশলীর। আলোচনায় ছিলেন মেয়র বলেন শাহও। কাঠমান্ডু থেকে আলজাজিরার রব ম্যাকব্রাইড বলেন, সুশীলা কার্কিকে দুর্নীতিবিরোধী আওয়াজ হিসেবে দেখা হয়। জেন-জির কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। গত সোমবার শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নেপালের কে পি শর্মা অলি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে অনেকে হতাহত হন। এতে বিক্ষোভ বিধ্বংসী রূপ নেয়। পরদিন আন্দোলনের মুখে কে পি শর্মা অলি ও তাঁর মন্ত্রীরা পালাতে ও আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। এ সময় অনেকেই হতাহত হন। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে পৌঁছেছে। আহতের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। পুলিশ বলছে, নিহতদের মধ্যে নেপালের তিন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া ২১ বিক্ষোভকারী, অন্যান্য ১৮ জন ও ৯ বন্দি আছেন। সংসদ ভাঙার নেপথ্যে যা ঘটল এ পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধান রাজনৈতিক দল-নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল ও সিপিএন (মাওবাদী) বলেছে, যে কোনো নতুন সরকারকে সংবিধান অনুসরণ করতে হবে এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া এড়াতে হবে। তবে কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন শাহসহ অন্যান্য ব্যক্তিত্ব আইনসভা ভেঙে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নেপালে বিক্ষোভে তরুণদের পক্ষে অন্যতম কণ্ঠস্বর ছিলেন এ বলেন শাহ। সূত্রের বরাত দিয়ে সেতুপতি ডিজিটাল ম্যাগাজিন জানায়, সুশীলা কার্কিকে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র বলেছিলেন– ‘আমি আপনাকে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান করছি। একটি নির্বাচনের জন্য আপনি প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন।’ তবে সুশীলা এ পরিকল্পনা মেনে নিতে রাজি হননি। উল্টো তিনি প্রেসিডেন্টকে বলেন, তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার আগেই যেন সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কার্যত এ নিয়ে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন বিলম্বিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র বলেন, ‘সরকারপ্রধানের সুপারিশে আমি যদি এটি (পার্লামেন্ট) ভেঙে দিই, তবেই এটি বৈধতা পাবে। আর প্রেসিডেন্ট যদি নিজেই সংসদ ভেঙে দেন, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট ভবিষ্যতে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারেন।’ শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্রই পার্লামেন্ট ভাঙলেন। সাড়ে ১২ হাজার কয়েদি পলাতক অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে এ আলোচনার মধ্যে নেপালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির সড়কে টহল দিচ্ছে সামরিক বাহিনী। গত মঙ্গলবার রাতে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ ও কারফিউ জারির পর তা গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বহাল ছিল। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, সহিংসতা চলাকালে সাড়ে ১৩ হাজার বন্দি নেপালের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন। এর মধ্যে এক হাজার জনকে ফের গ্রেপ্তার করা হলেও বাকিরা অধরা। আমারবাঙলা/এফএইচ

from Amarbangla Feed

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.